কোটা থাকছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকদের

পদ ১৩তম গ্রেড ঘোষণা হওয়ায় কোটা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নির্ধারিত ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা বহাল থাকছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানানো হয়, এই নিয়োগ পরীক্ষা জুলাই শেষে অথবা আগষ্টের প্রথম দিকে

শুরু হবে। সারাদেশে ৪০ হাজার ৩০০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক ও প্রায় ৩২ হাজার শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে ডিপিই থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে সব কোটা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক

বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নারী, পোষ্য ও পুরুষ কোটা বহাল থাকবে। সে অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এদিকে কোটা কমানোর দাবিতে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলেন।

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন এতে নেতৃত্ব দেয়। আন্দোলনে অচল হয়ে

পড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ। একপর্যায়ে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে তৎকালীন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ২ জুন একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালের

৩ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব

অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এর ঠিক পরদিন নবম গ্রেড ও দশম থেকে ১৩তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এরপর সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোনো কোটা না রেখে

মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করতে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ জমা দেয় কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলার পর তা পাস হয়। সরকারি চাকরিতে প্রথম গ্রেড

পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকবে না বলে গত ২০ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রিসভা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *