সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সয়েদুল হক সুমন বলেছেন, বিশ্বের সবাই বলছে বাংলাদেশের ফুটবল

ফেডারেশনের লোকজন দুর্নীতিতে জড়িত এবং এদের অডিট আপত্তি হয়। কিন্তু কী কারণে এখনও সরকারের কাছে খবর যাচ্ছে না…ফুটবলটাকে কি একেবারে নিঃশেষ করে দেবেন?

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে এসে ফুটবল ফেডারেশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি এসব প্রশ্ন তোলেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আপনারা কি খবর পেয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা প্রতি বছর বাংলাদেশে চার

কোটি টাকার মতো বাফুফেকে দিত? এ বছর এই টাকাটাও আটকে দেয়া হয়েছে। কারণ, অডিট আপত্তি। তারা (বাফুফে) যেভাবে খরচ করেছে তাতে ফিফার মনে হয়েছে গত বছরগুলোতে দুই নম্বরী আছে।’

মাঠে খেলতে থাকা ফুটবলারদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা একাডমি চালাতে গেলে নিজে জানি যে কী পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে…একটা কোচ রাখতে হয়। কত ধরনের মানুষকে ম্যানেজ করতে হয়, একটা একাডেমি চালাতে গিয়ে।’

সুমন আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত ফান্ডে তো খুব বেশিদিন চালানো যায় না। ধরেন আমি তো পয়সা-কড়ি আছে বলে

চালাতে পারছি। সরকারিভাবে ওয়ার্ল্ডের ফুটবল সংস্থা ফিফা থেকে যে টাকাটা আসে, এই টাকাটা যদি ম্যানেজ করা যেত তাহলে বাংলাদেশ আর নেপালের সাথে এভাবে গোল খাইত না।’

নানা অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং এই সিন্ডিকেট থেকে কোনোভাবেই এই ফুটবল

বের করে আনা যাবে না। অসুবিধা কী? আমি আর কদিন চিৎকার করব? আমি না হয় বন্ধ হয়ে গেলাম, ফুটবলটা যদি শেষ হয়ে যায়, দেখতে চাই কাদের কাদের এত ভালো লাগে।’

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং এই সরকারের বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, যে ফুটবলটাকে বাঁচাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এমনিতেই মানুষ যে ধরনের মৌলবাদ থেকে শুরু করে, কুসংস্কার এবং এই ধরনের ইনফরমেশনের

অভাবে মাঠমুখী যাচ্ছে না কেউ। মানুষ যদি খেলাধুলা না করে, তা হলে মানুষ আস্তে আস্তে গোঁড়া হয়ে যাবে,

এক্সটিমিস্ট হবে। সে যা মন চায় তাই চাইবে। মানুষে আইন হাতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। থানা পুড়িয়ে দেয়, তারা উপজেলা

পুড়িয়ে দেয়। মানুষের আসলে সুস্থ চিন্তার অভাব। সুস্থ খেলাধুলার অভাব। তার ওপর এতো অভিযোগ এই সালাহ উদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে।’

‘এতো অভিযোগ, যে অভিযোগের কোনো শেষ নাই। ফুটবলটা নিচে নামতে নামতে আমরা নিঃশেষ হয়ে গেছি।

তারপরেও বছরের পর বছর ধরে উনি আমাদের ফুটবল ফেডারেশনের নেতা। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তাকে কেউ কিছু বলবে না।’

ফুটবলের প্রতি সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে বলব ফুটবলটা আগে বাচাইতে আসেন। ফুটবল যদি বাঁচে তো বাংলাদেশের ভবিষ্যাৎ জেনারেশন বেঁচে যাবে। তারপরেও জানি না ভবিষ্যতে কী হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *