1. [email protected] : Nirob Ahmed : Nirob Ahmed
  2. [email protected] : Nur Mohammad : Nur Mohammad
মালদ্বীপকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ
রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

মালদ্বীপকে বিধ্বস্ত করে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ

  • সময় : শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০২২
  • ৯৩ ০ পঠিত
বাংলাদেশ

ভারতের অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে যেন এক অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের আবির্ভাব হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের পর মালদ্বীপকেও বিধ্বস্ত করেছে মিরাজুলরা। শুক্রবার (২৯ জুলাই) সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত করেছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। চার গোলের সবকটিতে অবদান রাখেন ইব্রাহিম শরিফ মিরাজুল। তুলে নেন আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক।

আসরের প্রথম তিন ম্যাচে জয় তুলে ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। নেপালের বিপক্ষে শনিবারের (৩০ জুলাই) ম্যাচে ভারত হারলেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। অন্যথায় অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।

মালদ্বীপের বিপক্ষে এক অন্যরকম মিরাজুলকে আবিষ্কার করেছে সমর্থকরা। ড্রিবলিংয়ে তিনি যেন লাতিন আমেরিকার কোনো ফুটবলার। নিজের পায়ের কারিকুরিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়েছেন বেশ কয়েকবার। গোল উৎসবের শুরুটা মিরাজুল করেন ম্যাচের ১৯ মিনিটে। ডি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে গোলের জন্য শট নেয় মুর্শেদ আলী। মালদ্বীপ গোলরক্ষকের হাতে বল লেগে চলে যায় পেনাল্টি এরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিরাজুলের কাছে। আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি।

ম্যাচের ২১ মিনিটে বারে বল লাগলে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। তবে পরের মিনিটে আর গোল মিস করেনি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার কর্নার থেকে উড়ে আসা বল মুর্শেদের হেড ঠেকিয়ে দেন মালদ্বীপের গোলরক্ষক। সুযোগ পেয়ে যান মিরাজুল। জোরালো শটে কাঁপিয়ে দেন প্রতিপক্ষের জাল।

এরপর ম্যাচের ২৬ মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস করেন পিয়াস আহমেদ নোভা। ডি বক্সের বাম প্রান্ত থেকে মিরাজুলের দেয়া বল দৌড়ে এসে পেনাল্টি এরিয়াতে পেয়ে যান পিয়াস। কিন্তু তার নেয়া জোরালো শটটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি প্রতিপক্ষের জাল। ৩১ মিনিটে একটি গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল মালদ্বীপও। কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি দলটির ফরোয়ার্ড বিভাগের ফুটবলার।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে আক্রমণে ওঠে ডি বক্সে বল পাস দেন মিরাজুল। বল দখলে নিয়ে জোরালো শটে ব্যবধান ৩-০ করেন রফিকুল ইসলাম। ৩৬ মিনিটে আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মুর্শেদ। পেনাল্টি এরিয়ার কাছাকাছি বল পেয়েও উড়িয়ে মারেন বারের ওপর দিয়ে। এর কিছুক্ষণ পর পিয়াস আহমেদ নোভার নেয়া হেড সরাসরি চলে যায় প্রতিপক্ষের কিপারের হাতে।

ম্যাচের ৪২ মিনিটে মিরাজুলের নেয়া জোরালো শট মালদ্বীপ গোলরক্ষকের হাতে লেগে ফিরে আসলে এগিয়ে গিয়ে জালে জড়ান মিরাজুল। পূর্ণ করেন তার হ্যাটট্রিক। বিরতিতে যাওয়ার আগে আরেকবার মালদ্বীপের জাল বিধ্বস্ত করার সুযোগ পেয়েছিলেন মিরাজুল। কিন্তু ডান প্রান্ত থেকে আসা বলটি নাগালে না পাওয়ায় কাঁপানো হয়নি প্রতিপক্ষের জাল।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা মালদ্বীপ দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত করে তোলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৫২ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে মালের ফরোয়ার্ড আব্দুল হামিদ। পরের মিনিটে অবশ্য আর সুযোগ নষ্ট করেননি প্রতিপক্ষের ফুটবলাররা। মালদ্বীপের ফুটবলাররা শট নেয়ার আগে এগিয়ে গিয়ে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন গোলকিপার আসিফ। কিন্তু তানভীরের গায়ে লেগে বল চলে যায় প্রতিপক্ষের কাছে। আলতো শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান তারা। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দারুণ দক্ষতায় বোকা বানিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন মিরাজুল।

কিন্তু বল পাস দেয়ার মতো কাউকে না পাওয়ায় গোল পায়নি বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন নোভা। এরপর আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণে দুই দলই ব্যস্ত রেখেছে প্রতিপক্ষে রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মালদ্বীপ গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে গোল থেকে বঞ্চিত হয় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ৮৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মিরাজুলের নেয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের গোরকিপারকে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় গোল বারে। অতিরিক্ত মিনিটে পেনাল্টি এরিয়া থেকে পরপর দুটি শট নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন নোভা। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানের জয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্মলির শিষ্যদের।

এ ম্যাচ জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেপাল। তিনে থাকা ভারতের ২ ম্যাচে পয়েন্ট সংখ্যা ৩।

এখান থেকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

এই জাতীয় আরে খবর
© All rights reserved © 2021 @CTnews Sports
Design CTnews Sports