1. [email protected] : Nirob Ahmed : Nirob Ahmed
  2. [email protected] : Nur Mohammad : Nur Mohammad
দুই দিনের বৈরাগ্য ছেড়ে লিটন এখন বাবর–কোহলির কাতারে
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

দুই দিনের বৈরাগ্য ছেড়ে লিটন এখন বাবর–কোহলির কাতারে

  • সময় : রবিবার, ২০ মার্চ, ২০২২
  • ৩২ ০ পঠিত
রিজওয়ান

বাবর আজম, জো রুট, মোহাম্মদ রিজওয়ান, বিরাট কোহলি ও লিটন দাস। না, প্রথম চারজনের সঙ্গে তুলনা করে শেষের জনকে টেনে আনা হয়নি।

তেমন কিছু ধৃষ্টতার শামিল হবে এখনো। কোথায় তাঁরা, আর কোথায় লিটন! কেউ কেউ মনে করিয়ে দিতে পারেন সেই অমোঘ প্রবাদ, ‘দুই দিনের বৈরাগী…’, খুব একটা দোষ দেওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লিটনের শুরুর পথচলা তো অনেকটা এমনই।

আফসোস ঝরেছে। যে ছেলেটার ব্যাটিং ধারাভাষ্যকারদের চোখে ‘জয় টু ওয়াচ’—সেই লিটনই কিনা এক ম্যাচে ভালো করছেন, তো পরের ৫–১০ ম্যাচে নিজের উইকেটের ফুটো পয়সা মূল্যও দিচ্ছেন না! বাতাসে তুলে মেরে আউট হয়েছেন প্রচুর।

কিন্তু দুই বছর ধরে সেই লিটনই যেন ‘মাটির মানুষ।’ খারাপ করলে ব্যাটিংয়ের কৌশলে রদবদল আনেন অনেকেই। লিটনও গত দুই বছরে মাটিতে খেলে সফল।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই তা বোঝা গেছে। প্রথম ২৫–৩০ ওভার নিচে খেলে ‘সেট’ হয়ে পড়ে তুলে মেরেছেন নিশ্চিন্তে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যদিও প্রথম ওয়ানডেতে ২৩ ওভারের বেশি টেকেননি।

৬৭ বলে ৫০—লিটনের এই ইনিংসে আনন্দের চেয়ে আফসোসই বেশি হবে। মুহূর্তের মহিমায় ‘বেসিক’ ভুলে গিয়েছিলেন লিটন। সেঞ্চুরিয়নের উইকেটে বল শুরু থেকে ওঠা–নামা করেছে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করার চেষ্টা করলে না হয় কথা ছিল, স্টাম্পের ভেতরে নিচু হয়ে আসা বলে আগেভাগে ওই শট খেলার সময়ই ভুলটা টের পেয়েছেন লিটন। কিন্তু ততক্ষণে আর কিছুই করার নেই, বোল্ড!

নাহলে কে জানে, অর্ধশতকটি শতকও হতে পারত! ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে লিটনের স্কোর এমনিতেই চোখে আনন্দের পরশ বুলাচ্ছে—৫০, ১৩, ৬০, ৮৬, ১৩৬। ফর্মে যে আছেন, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। তা আরও ভালোভাবে টেনে নিতে কাল একটু ধৈর্য আর উপস্থিত বুদ্ধির দরকার ছিল ওই সময়।

সেখানে ‘পাস’ করতে না পারায় এবং ক্যারিয়ারজুড়ে এসব ভুল কমবেশি করায় একলহমায় বাবর–কোহলিদের সঙ্গে তুলনাটা ধৃষ্টতার শামিল বলেই মনে হয়। এসব জায়গায় ‘ফাইন টিউনিং’–ই তো গ্রেট ক্রিকেটার ও তারকা ক্রিকেটারের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। লিটন কখনো ‘গ্রেট’ হতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত, গত দুই বছরের পরিসংখ্যান দেখে বলা যায়, লিটন বাবর–কোহলিদের কাতারেই আছেন।

দুই বছরে ৬০ ম্যাচে ৬৩ ইনিংসে ৪৯.৩৬ গড়ে ২৮৬৩ রান করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমছবি: এএফপি
২০২০ সালের শুরু থেকে কাল পর্যন্ত সব সংস্করণ মিলিয়ে রান তোলায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন লিটন।

তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন চারজন—কোহলি, রিজওয়ান, রুট ও বাবর। অর্থাৎ, গত দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ওপেনারকে অন্তত বাবর–কোহলিদের পাশে রাখাই যায়।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে এ দুই বছরে ৬০ ম্যাচে ৬৩ ইনিংসে ৪৯.৩৬ গড়ে ২৮৬৩ রান করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। দুইয়ে থাকা রুট শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ (৩৬) খেলেছেন। কারণ, এর মধ্যে ২৭টিই ছিল টেস্ট ম্যাচ।

৫৬ ইনিংসে ৫৪.২৯ গড়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কের রানসংখ্যা ২৭৬৯। শীর্ষ পাঁচে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৬৪) খেলা রিজওয়ান ৬৩ ইনিংসে ৫২.৩৭ গড়ে ২৫১৪ রান করেছেন।

৫৭ ম্যাচ খেলা কোহলি ৬৭ ইনিংসে ৩৫.৫৮ গড়ে করেছেন ২২০৬ রান। এ সময় লিটনের রানসংখ্যা ২১৬৫। ৩৮.৬৬ গড়ে ৫২ ম্যাচে ৫৮ ইনিংসে এ রান করেছেন ডানহাতি ওপেনার। এ তালিকায় শীর্ষ তিনের সঙ্গে লিটনের হয়তো পার্থক্যটা বেশ বড়।

কিন্তু কোহলির সঙ্গে তো ভালোই মিল! শীর্ষ পাঁচের মধ্যে এ দুই বছরে শুধু কোহলি ও লিটনের ব্যাটিং গড়ই ৪০–এর নিচে। তাতে অবশ্য নেহাত কৌতুকের মজা পাওয়া ছাড়া সত্যিকার আনন্দের কিছু নেই। তবে অন্য এক ক্ষেত্রে সে উপলক্ষ আছে।

এ দুই বছরে কোহলির শতকসংখ্যা ০, লিটনের ৬! এ দুই বছরে লিটনের শতকসংখ্যা বাবরের সমান!

শীর্ষ পাঁচে শুধু রুটই শতকসংখ্যায় বাবর–লিটনের চেয়ে এগিয়ে, ৮টি। সবগুলো শতক টেস্টে পেয়েছেন রুট। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক (৫৬.৯৬) ও কোহলির (৬৭.৩৭) চেয়ে স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে লিটন (৭৫.৭৭)। যদিও বিষয়টি একটু ব্যাখ্যার দাবি রাখে। এ দুই বছরে রুটের খেলা ৩৬ ম্যাচের মধ্যে ২৭টিই টেস্ট, স্ট্রাইক রেট কমাই স্বাভাবিক। কোহলির খেলা ৫৭ ম্যাচের মধ্যে টেস্ট অবশ্য ১৭টি। লিটন খেলেছেন ১১ টেস্ট। এ সময়ে টেস্টে কোহলির চেয়ে রানে ও ব্যাটিং গড়ে (৮৪১ ও ২৮.০৩) এগিয়ে লিটন (৯০৫ ও ৫০.২৭)।

গত বছর ওয়ানডে ম্যাচ খুব বেশি হয়নি। কোহলি গত দুই বছরে ১৮টি ওয়ানডে খেলেছেন, বাবর খেলেছেন ৯টি। লিটন এ সংস্করণে ১৮ ম্যাচে ৪৯.৪১ গড়ে ৮৪০ রান নিয়ে তিনে। দুইয়ে তামিম ইকবাল ও শীর্ষে পল স্টার্লিং। কোহলি এ তালিকায় ৯তম ও বাবর ১৭তম। শীর্ষ ১০–এ শুধু রাসি ফন ডার ডুসেন ও লোকেশ রাহুল ছাড়া আর কেউ স্ট্রাইক রেটে লিটনকে (৯০.১২) ছাপিয়ে যেতে পারেননি। ভুললে চলবে না, এ দুই বছরে লিটন ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রোক খেলার ‘বদ অভ্যাস’ কাটিয়েছেন। শুধু নিচে খেলায় তাঁর স্ট্রাইক রেট কমার সম্ভাবনা থাকলেও বলে বলে রান নেওয়ার মুনশিয়ানাটুকু থাকায় তা হয়নি।

টি–টোয়েন্টিতে অবশ্য লিটন শীর্ষস্থানীয়দের ধারেকাছেও নেই। এ দুই বছরে ২৩ ম্যাচে ২০ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৪২০। উগান্ডার সৌদ ইসলাম (২০ ম্যাচে ৪৫২) কিংবা আরব আমিরাতের চেরাগ সুরি (১৭ ম্যাচে ৫৪২) এ সময় তাঁর চেয়ে বেশি রান করেছেন। সে যাক, তিন সংস্করণের প্রসঙ্গে ফেরা যাক।

গত দুই বছরে লিটনের ১২টি অর্ধশতকের পাশে ৬টি শতক অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। লিটনের সামর্থ্য বেড়েছে। সেটি কীভাবে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধাঁচ বদলে যাওয়ার রহস্যটা আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই খোলাসা করেছেন লিটন, ‘আমি চাইলে হয়তো শুরুর দিকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরে দিতে পারতাম। তাতে কী হতো? চার বা ছয়। কিন্তু আউট হওয়ার ঝুঁকিও থাকত…এ জিনিসটা নিজে থেকে পরিবর্তন করা প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি চিন্তা করেছি যে আমার একটা উইকেটের মূল্য আছে। নিজের উইকেটের মূল্যটা দিচ্ছি। আশা করি, সামনেও দিতে পারব।’

লিটন নিজেকে পাল্টেছেন বলেই পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে তিন সংস্করণ মিলিয়ে তাঁর ছক্কাসংখ্যা কোহলি (২৯), রিজওয়ান (৪৯) ও বাবর আজমের (৩৪) চেয়ে কম। নামের পাশে ২৫ ছক্কা। কিন্তু চার মারায় কোহলির (২০৮) চেয়ে এগিয়ে। ২৩১টি চার মেরেছেন ডানহাতি ওপেনার। এসবই নিচে খেলার সুফল। এখন শুধু সংযমটা আরেকটু বাড়ালেই হয়। ওই তো, উইকেটে সেট হওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের পারদ এতটা উঁচুতে ওঠে যে আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না—স্টাম্পে নিচু হয়ে আসা বলও স্কয়ার কাটে ‘মরিবার হল তার সাধ’ জাগে!

এখান থেকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

এই জাতীয় আরে খবর
© All rights reserved © 2021 @CTnews Sports
Design CTnews Sports